গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারের ওপর হামলা, বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে মোস্তফা পাঠানের পরিবারের লোকজন গেলে প্রতিপক্ষ সোহেল পাঠানের পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের পরিবারের লোকজন আহত হন। মোস্তফা পাঠানের পরিবারের ৩ জন সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায়গত ৩০ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয় যাহার নম্বর ২৮ । ঘটনার পর হতে সোহেল পাঠানের পরিবারের লোকজন পলাতক থাকে। সোহেল পাঠানের স্ত্রী মোসা. সাহেরা আক্তার মুক্তি কালিগঞ্জ থানায় গত ৪ নভেম্বর পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ করেন মোস্তফা পাঠানের পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে তিনি মোস্তফা পাঠানের ছেলে মাহফুজ পাঠানসহ সাত নাম উল্লেখ করে বলেন ৩০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বসতবাড়ির গেট তালাবদ্ধ করে পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ রেখে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন এবং হামলাকারীদের ভয়ে আশপাশের লোকজনও প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। পরে তারা জাতীয়় জরুরী সেবা নং ৯৯৯ এ কল করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার হয়। অভিযোগপত্রে তিনি বসতবাড়ি, গাড়ি, সোলার প্যানেল, থাই গ্লাস ও টিনের বেড়াসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুরে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ঘটনার পর আমার শ্বশুর আহত নাজিম উদ্দিন পাঠান গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাহেরা আক্তার মুক্তি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা পাঠানের পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মোস্তফা পাঠানের পরিবারের তিনজন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। সোহেল পাঠানের বাবা আহত অবস্থায় গাজীপুর তাজউদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানায় মোস্তফা পাঠান এবং সোহেল পাঠানের পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি লিখিত অভিযোগ হয়। মোস্তফা পাঠানের পরিবারের অভিযোগে মামলা করা হয় এবং সোহেল পাঠানের পরিবারের অভিযোগটি তদন্ত চলমান।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ করিম খান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়ে দুইটি অভিযোগ পেয়েছি। একটি মামলা হয়েছে। অপরটির তদন্ত চলমান।