ফরিদপুরের সালথায় রাস্তা, বাঁশের সাঁকো ও কালভার্ট নির্মাণ-মেরামতের পর এবার ৬৫০ ফুট ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণকাজ শুরু করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে একের পর এক জনদুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা পাচ্ছেন এই যুবদল নেতা।
এর আগে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ইজারাপাড়া গ্রামে ৯০০ ফুট কাঁচা রাস্তা নির্মাণ ও ১৫০ ফুট ইটের সোলিং, শিহিপুর গ্রামে ১০০ ফুট ইটের রাস্তা সংস্কার ও সোলিংয়ের কাজ, ভরকামদিয়া- তুগোলদিয়া আঞ্চলিক সড়কের সেতুর দুইপাশে ঢালাইয়ের কাজ, উত্তর পুরুরা গ্রামে ধসে যাওয়া রাস্তা ঢালাই দিয়ে সংস্কার, একই গ্রামে ৮০০ ফুট কাচাঁ রাস্তা নির্মাণ, বারখাদিয়া গ্রামে ৭০০ ফুট কাঁচা রাস্তা নির্মাণ, তুগোলদিয়া গ্রামে ১৫০ ফুট ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ, তুগোলদিয়া- ইউসুফদিয়া সংযোগস্থলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ এবং ইউসুফদিয়া-মোন্তার মোড় আঞ্চলিক সড়কের ইজারাপাড়া ডাঙ্গী জামে মসজিদসংলগ্ন ভাঙা কালভার্ট মেরামত করেন তিনি। এবার একই ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়ায় ৬৫০ ফুট রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়ার দীর্ঘদিনের চলাচলের অনুপযোগী কাঁচা রাস্তার ওপর ইটের সোলিং বসানোর কাজ চলছে। স্থানীয় শ্রমিকেরা রাস্তার মাটি প্রস্তুত ও ইট বিছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাস্তাটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি দিয়ে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও ইউসুফদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে। পাশাপাশি এ সড়কটি এলাকার সহস্রাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সালথা সদর ও ইউসুফদিয়া বাজারে যাতায়াত করেন। ফলে সড়কটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চলাচল করতে কষ্ট হতো। বিশেষ করে বর্ষার সময় কাদা-পানিতে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। তখন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হতো। এনায়েত হোসেন নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি নির্মাণের কাজ শুরু করায় আমরা খুবই খুশি। কাজটি শেষ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।
আরেক বাসিন্দা নুরইসলাম বলেন, গ্রামের মানুষের চলাচলের সমস্যা দেখার মতো মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। এনায়েত এর আগেও এলাকার কয়েকটি রাস্তা ও সাঁকো নির্মাণ করেছেন। এবার আমাদের এলাকার রাস্তাটির কাজ শুরু করেছেন। আমরা চাই, কাজটি ভালোভাবে শেষ হোক। তাঁর এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘রাজনীতি করি মানুষের জন্য। এলাকার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ দেখলে নিজের কাছে খারাপ লাগে। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। মানুষের উপকারে আসতে পারাটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।