একটি বাঁশের সাঁকো। আর তাতেই বদলে গেছে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র। যে পথে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তেন কৃষক, শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজারো মানুষ, সেই পথেই এখন মিলেছে স্বস্তি। খালের পানির মধ্য দিয়ে কষ্ট করে ফসল পারাপারের দিন কিছুটা হলেও কমেছে। এমন একটি মানবিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যুবদলের সদ্য ঘোষিত সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ও তুগোলদিয়া গ্রামের সংযোগস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের সাঁকোটি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানে সাঁকোটি পেয়ে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, ছোট এই উদ্যোগে কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই এসেছে স্বস্তি।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া খুব একটা লাগেনি বললেই চলে। রাস্তাঘাটের অভাবে বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমেও সরু হালট দিয়ে চলতে হয়। কৃষকেরা খালের পানির মধ্য দিয়ে কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল পারাপার করেন। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষের এই দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাস্তা ও সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগে আমরা উপকৃত হয়েছি। এজন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
স্থানীয় কৃষক পলাশ মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাদাপানির মধ্য দিয়ে মাথায় করে উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করতে হতো। অনেক সময় ফসল নিয়ে খাল পার হতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন সাঁকোটি হওয়ায় আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমেছে। শুধু কৃষকেরাই নন, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাও এর সুফল পাচ্ছে। আগে বিকল্প পথে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষায় খাল ও কাদাপানির কারণে চলাচল কঠিন হয়ে ওঠে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। এমন পরিস্থিতিতে বাঁশের সাঁকোটি নির্মিত হওয়ায় আপাতত তাঁদের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে।
উদ্যোগের বিষয়ে যুবদল নেতা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, রাজনীতি আমার কাছে শুধু পদ-পদবি কিংবা নেতৃত্বের বিষয় নয়, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি মাধ্যম। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছি। আমার এই ছোট উদ্যোগে যদি কৃষকের কষ্ট কিছুটা কমে, শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হন, তাহলেই আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে। তবে বাঁশের সাঁকো স্থায়ী সমাধান নয়। এখানে একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব। আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।