লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহীম। পবিত্র কোরআনে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে পড়তে আসা ৯ বছরের এক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে নির্মমভাবে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ধরনের অত্যন্ত ঘৃণ্য বা পৈশাচিক অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত মাওলানা ইব্রাহীম নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের ছেলেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, যিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আটককৃত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কঠোর পুলিশ নিরাপত্তায় লক্ষ্মীপুর আদালতে হাজির করা হয়। পরবর্তীতে বিচারক শুনানি শেষে তাঁকে জেলা কারাগারে প্রেরণের জোরালো আদেশ দেন।নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার অধীন চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন মান্দারী ইউনিয়নের সুপরিচিত গন্ধব্যপুর এহইয়াউল উলুম হাফেজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসায়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নিজ ছেলের ওপর চলা এই পাশবিক নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে শনিবার বিকেলেই উক্ত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহীমকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক কণ্ঠে গণমাধ্যমকে জানান, “আমার আদরের একমাত্র ছেলেকে পরম যত্নে পবিত্র কোরআনে হাফেজ বানানোর পবিত্র আশা নিয়ে আমি এই মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সে ইতিমধ্যে পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজও সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ আবাসিক কামরায় দুই লম্পট শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা মিলে আমার অবুঝ সন্তানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে পালাক্রমে এই যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আমি এই পশুতুল্যে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি ও সর্ব্বোচ্চ বিচার চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব গণমাধ্যমকে জানান, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহীমকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার অপর পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”