এক বুক আশা আর অজস্র স্বপ্ন নিয়ে যে ছেলেটি প্রতিদিন ঘরে ফিরত, সে আর জীবিত ফিরে এলো না। নোয়াখালীর সেনবাগে নিখোঁজের একদিন পর নিজ বাড়ির পাশের এক ধানক্ষেত থেকে মারুফ (১৮) নামের এক যুবকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারে এখন বইছে শোকের মাতম, পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছায়া।
নিহত মারুফ সেনবাগ উপজেলার ৩নং ডমুরুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির রিপন মিয়ার মেজো ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত থেকে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন মারুফ। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। ছেলের কোনো খবর না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা-বাবা। অবশেষে সমস্ত আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বুধবার (০৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় তার লাশ।
যে সন্তান কাল রাতেও হাসিমুখে ঘুরে বেরিয়েছে, আজ তাকে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের আহাজারিতে মতইন গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মা-বাবার বুকফাটা কান্না আর বিলাপ যেন কিছুতেই থামছে না।
তবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর রহস্য। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, পুলিশি তদন্তের পরই বেরিয়ে আসবে মারুফের এই নির্মম ও আকস্মিক মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।
একটি উদীয়মান প্রদীপের এভাবে অকালে নিভে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। পুরো মতইন গ্রামজুড়ে এখন শুধুই কান্না আর এক গভীর স্তব্ধতা।