বরগুনায় দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি, আসাদ সবুজকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।মামলা মানেই অপরাধী প্রমাণিত হওয়া নয়; অভিযোগ সত্য কি না, তা আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।
ঘটনার পেছনে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের প্রেক্ষাপট রয়েছে। এই বিরোধের জেরেই মামলাটি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে স্হানীয় মহল।
আদালতে নেওয়ার সময় পেছনে হাতকড়া পরানো এবং ডোপ টেস্ট করানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় পুলিশ কেন এই টেস্ট করাল, তা অস্পষ্ট।
পুরো বিষয়টি সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছে সাংবাদিক মহল।
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি, বরগুনা ও
আজীবন সদস্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বরগুনা জয়নাল আবেদীন রাজু বলেন, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এমন দৃশ্য দেখা সত্যিই কষ্টদায়ক। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে; তবে আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজ একজন সংবাদকর্মী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় পেছন দিক থেকে যেভাবে হাতকড়া পরানো হয়েছে, সেই দৃশ্য একজন সাংবাদিক হিসেবে আমাকে ব্যথিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি একজন গ্রেপ্তার ব্যক্তির মর্যাদা ও মানবিক অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আমি একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে প্রত্যাশা করছি—অভিযোগের বিচার হবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়, আর সংবাদকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। আমাদের দেশে সাংবাদিকতার মর্যাদা ও পরিবেশ আরও সমুন্নত করতে সাংবাদিকদের নিজেদের দায়িত্বশীলতা, সাংবাদিক নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ—সবকিছুরই প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে বরগুনার সচেতন মহল ও সাংবাদিকবৃন্দ টাউনহল সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে এবং আসাদ সবুজের নিঃর্শত মুক্তির দাবিতে আগামীকাল সকাল ১০টা এক মানব বন্ধনের ডাক দিয়েছে।