Dhaka 7:26 am, Friday, 23 January 2026

রাজবাড়ীতে মহাসড়কের কাজে নয়ছয়,নিরব জেলা সড়ক বিভাগ

রাজবাড়ীর জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট হইতে বসন্তপুর সাইনবোর্ড ও গোয়ালন্দ মোড় হইতে শ্রীপুর বাসটার্মিনাল পর্যন্ত মহাসড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও জেলা সড়ক বিভাগের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে দৌলতদিয়া ঘাটের তেলের পাম্প হইতে বসন্তপুর সাইনবোর্ড পর্যন্ত চলমান মহাসড়কের জিবিএসটি ডাবল ভিটুমিনিয়ার ছাফবেজ টিটমেন্টের কাজ পায় মেসার্স সাইদুর রহমান নামক একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যার নির্মাণ ব্যয়ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই কাজ শুরু হয় গত ১৫’ই এপ্রিল-২০২৫ আর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ১৫’ই জানুয়ারি-২০২৬। আর গোয়ালন্দ মোড় হইতে শ্রীপুর বাসটার্মিনাল পর্যন্ত চলমান মহাসড়কে জিবিএসটির ডাবল ভিটুমিনিয়ার ছাফবেজ টিটমেন্টের কাজ পায় ওটিবিএল নামক অন্য আরেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যার নির্মাণ ব্যয়ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা। এই কাজ শুরু হয় গত ২৪শে মার্চ-২০২৫ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২৪শে ডিসেম্বর-২০২৫ এর মধ্যে। কিন্তু কাজ শুরুর প্রথম দিন থেকেই নানা অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ জেলা সড়ক বিভাগ।

অভিযোগ রয়েছে, এই মহাসড়কের জিবিএসটি ডাবল ভিটুমিনিয়ার ছাফবেজ টিটমেন্টের কাজে, ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের মরা পাথর। আর ভিটুমিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের মেয়াদ উত্তীর্ণ পাতলা পানির মত ভিটুমিন। যার কারণে কাজ শেষ করার মাত্র ১ সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে অধিকাংশ পাথর। সেই পাথর আবার ঝাড়ু দিয়ে ওঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার। আর এই কাজ এতটাই তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে, তাতে মানা হচ্ছে না কোন প্রকার নিয়মনীতি সেপ্টটি । এতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও মহা সড়কের ময়লা-আর্বজনা পরিস্কার না করেই তার উপরে দেওয়া হচ্ছে ভিটুমিনের প্রলেপ।

মিরাজ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, রাস্তায় পানির মত পাতলা ভিটুমিন দিছে। এই ভিটুমিনে পাথর আটকায় না। গাড়ির চাকার ঘশায় পাথর ওঠে যাচ্ছে।

মিলন সিকদার নামে একজন অটো চালক বলেন,এটা তো কাজ না,এটা হলো সরকারী টাকা মেরে দেওয়ার একটা ধান্দা।

তুহিন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিনই গাড়ির চাকার ঘষায় পাথর ছিটকে গিয়ে পথচারী চোখে মুখে লাগছে। এটা তো কাজ না, মানুষ মারার কল।
আরশেদ আলি নামে একজন বাসের ড্রাইভার বলেন,পাথর খুবই চুক্কা ও ধারালো, এই কারণে প্রতিনিয়ত চলন্ত গাড়ির চাকা পামছার/লিক হচ্ছে। রাস্তার মধ্যে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে তা মেরামত করতে হয়। এতে একদিকে হয়রানির স্বীকার হয় যাত্রীরা। অন্য দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও অভিযোগ ওঠেছে, গোয়ালন্দ মোড় হইতে শ্রীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কের প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার কাজ, ওটিবিএল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৫% হারে ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলো হাসান এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে। এনিয়ে মৌখিক চুক্তিতে ১০ লাখ অগ্রিম নেয় ওটিবিএল। পরে বাকি ৪০ লাখ টাকা নিয়ে হাসান এন্ড ব্রাদার্সকে রাস্তার বুঝে দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দেননি। প্রতারণা করে ওটিবিএল কোম্পানি নিজেই কাজ করছে। এই নিয়ে রাজবাড়ী সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সেই মামলা তদন্ত করছে জেলা ডিবি পুলিশ।

এবিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কথা বলেছেন মেসার্স সাইদুর রহমান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান। মুঠোফোনে প্রথমে তিনি বলেন, আমি নিয়ম মেনে কাজ করছি। আমার কাজে কোন অনিয়ম নেই। পরে প্রশ্ন করা হয়েছিলো সড়কের নিম্ন মানের মেয়াদ উত্তীর্ণ পানির মত পাতলা ভিটুমিন ও মরা পাথর কেন? ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনি নিউজ করে, যা পারেন তাই করেন।

এ ব্যাপারে উদাসিন জেলা সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ তুষার আহাম্মেদ, গাইলেন ঠিকাদারদের পক্ষে গুনগান। বলেন,মহা সড়কের কাজ খারাপ করার কোন সুযোগ নেই। অনিয়ম হলেই ব্যবস্থা। আর ৫% হারে কাজ বিক্রি নামে ওটিবিএল কোম্পানি যে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে জানান প্রকৌশলী তুষার আহমেদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নাগরপুরে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত 

রাজবাড়ীতে মহাসড়কের কাজে নয়ছয়,নিরব জেলা সড়ক বিভাগ

Update Time : 06:17:35 pm, Monday, 26 May 2025

রাজবাড়ীর জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট হইতে বসন্তপুর সাইনবোর্ড ও গোয়ালন্দ মোড় হইতে শ্রীপুর বাসটার্মিনাল পর্যন্ত মহাসড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও জেলা সড়ক বিভাগের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে দৌলতদিয়া ঘাটের তেলের পাম্প হইতে বসন্তপুর সাইনবোর্ড পর্যন্ত চলমান মহাসড়কের জিবিএসটি ডাবল ভিটুমিনিয়ার ছাফবেজ টিটমেন্টের কাজ পায় মেসার্স সাইদুর রহমান নামক একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যার নির্মাণ ব্যয়ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই কাজ শুরু হয় গত ১৫’ই এপ্রিল-২০২৫ আর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ১৫’ই জানুয়ারি-২০২৬। আর গোয়ালন্দ মোড় হইতে শ্রীপুর বাসটার্মিনাল পর্যন্ত চলমান মহাসড়কে জিবিএসটির ডাবল ভিটুমিনিয়ার ছাফবেজ টিটমেন্টের কাজ পায় ওটিবিএল নামক অন্য আরেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যার নির্মাণ ব্যয়ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা। এই কাজ শুরু হয় গত ২৪শে মার্চ-২০২৫ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২৪শে ডিসেম্বর-২০২৫ এর মধ্যে। কিন্তু কাজ শুরুর প্রথম দিন থেকেই নানা অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ জেলা সড়ক বিভাগ।

অভিযোগ রয়েছে, এই মহাসড়কের জিবিএসটি ডাবল ভিটুমিনিয়ার ছাফবেজ টিটমেন্টের কাজে, ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের মরা পাথর। আর ভিটুমিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের মেয়াদ উত্তীর্ণ পাতলা পানির মত ভিটুমিন। যার কারণে কাজ শেষ করার মাত্র ১ সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাচ্ছে অধিকাংশ পাথর। সেই পাথর আবার ঝাড়ু দিয়ে ওঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার। আর এই কাজ এতটাই তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে, তাতে মানা হচ্ছে না কোন প্রকার নিয়মনীতি সেপ্টটি । এতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও মহা সড়কের ময়লা-আর্বজনা পরিস্কার না করেই তার উপরে দেওয়া হচ্ছে ভিটুমিনের প্রলেপ।

মিরাজ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, রাস্তায় পানির মত পাতলা ভিটুমিন দিছে। এই ভিটুমিনে পাথর আটকায় না। গাড়ির চাকার ঘশায় পাথর ওঠে যাচ্ছে।

মিলন সিকদার নামে একজন অটো চালক বলেন,এটা তো কাজ না,এটা হলো সরকারী টাকা মেরে দেওয়ার একটা ধান্দা।

তুহিন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিনই গাড়ির চাকার ঘষায় পাথর ছিটকে গিয়ে পথচারী চোখে মুখে লাগছে। এটা তো কাজ না, মানুষ মারার কল।
আরশেদ আলি নামে একজন বাসের ড্রাইভার বলেন,পাথর খুবই চুক্কা ও ধারালো, এই কারণে প্রতিনিয়ত চলন্ত গাড়ির চাকা পামছার/লিক হচ্ছে। রাস্তার মধ্যে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে তা মেরামত করতে হয়। এতে একদিকে হয়রানির স্বীকার হয় যাত্রীরা। অন্য দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও অভিযোগ ওঠেছে, গোয়ালন্দ মোড় হইতে শ্রীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কের প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার কাজ, ওটিবিএল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৫% হারে ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলো হাসান এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে। এনিয়ে মৌখিক চুক্তিতে ১০ লাখ অগ্রিম নেয় ওটিবিএল। পরে বাকি ৪০ লাখ টাকা নিয়ে হাসান এন্ড ব্রাদার্সকে রাস্তার বুঝে দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দেননি। প্রতারণা করে ওটিবিএল কোম্পানি নিজেই কাজ করছে। এই নিয়ে রাজবাড়ী সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সেই মামলা তদন্ত করছে জেলা ডিবি পুলিশ।

এবিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কথা বলেছেন মেসার্স সাইদুর রহমান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান। মুঠোফোনে প্রথমে তিনি বলেন, আমি নিয়ম মেনে কাজ করছি। আমার কাজে কোন অনিয়ম নেই। পরে প্রশ্ন করা হয়েছিলো সড়কের নিম্ন মানের মেয়াদ উত্তীর্ণ পানির মত পাতলা ভিটুমিন ও মরা পাথর কেন? ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনি নিউজ করে, যা পারেন তাই করেন।

এ ব্যাপারে উদাসিন জেলা সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ তুষার আহাম্মেদ, গাইলেন ঠিকাদারদের পক্ষে গুনগান। বলেন,মহা সড়কের কাজ খারাপ করার কোন সুযোগ নেই। অনিয়ম হলেই ব্যবস্থা। আর ৫% হারে কাজ বিক্রি নামে ওটিবিএল কোম্পানি যে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে জানান প্রকৌশলী তুষার আহমেদ।