পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদী বেষ্টীত মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় প্রকৃতি এখন সেজেছে শরৎকালের নতুন সাজে। বর্ষার গ্লানি ধুয়ে প্রকৃতিকে নবরুপে সজ্জিত করতেই যেন নদীর তীর ও বিভিন্ন চরে উঁকি দিচ্ছে সাদা শুভ্র কাশফুল। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়া এক অপরূপ দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে এই জনপদে।
উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর ধার, নবনির্মিত উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সাদা মেঘের ওড়ার সাথে তাল মিলিয়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে কাশবন। বিশেষ করে বিকেল নামতেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন এসব কাশফুল বাগানে। ছোট থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছেই এই ফুল ও এর চারপাশের পরিবেশ দারুণ আকর্ষক। কেউ আলতো হাতে কাশফুলে বুলিয়ে নিচ্ছেন স্পর্শ, আবার কেউ ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী করছেন মুহূর্তটি। প্রিয়জন বা একান্ত কাছের মানুষদের নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চরাঞ্চল।
কাশবনে ঘুরতে আসা নবদম্পতি মাসুম ও আফিয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, শরৎকাল প্রকৃতির এক অসম্ভব সুন্দর ঋতু, যা তাদের ভীষণ পছন্দ। এ সময়ের অনুভূতি প্রকাশ করে তারা বলেন, 'এ সময়টাতে হঠাৎ সাদা-কালো মেঘে আকাশ ভারী হয়ে হালকা বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয়, আবার মুহূর্তেই রৌদ্রময় হয়ে ওঠে আকাশ। মেঘ আর রোদের এই লুকোচুরি খেলা আমাদের ভীষণ ভালো লাগে।'
আরেক দর্শনার্থী মনিকা মৌ বলেন, 'বর্ষার পাশাপাশি শরৎকালও আমার খুব প্রিয়। এ সময় প্রকৃতির এক ভিন্নরূপ দেখা যায়। মাঠে মাঠে সবুজ ধান, চারিদিকে কাশফুল, আর আকাশে সাদা মেঘ—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ পরিবেশ তৈরি হয়।'
পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অববাহিকা, বালুচরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীনালা ও চরে এখন প্রস্ফুটিত হচ্ছে কাশফুল। কাশফুলের এই রূপ দেখতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষই ছুটে আসছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে।
তবে এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের ওপরও জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থেকে এই স্নিগ্ধ প্রকৃতি ও চরাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।