মোঃ নাসির উদ্দিন
আসন্ন ১ নম্বর মশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য, সমাজসেবক ও সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম মৃধার নাম।ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার মশাখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মৃধা পরিবারের সন্তান ফেরদৌস আলম মৃধা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০০১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণ মূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।রাজনীতি ও সমাজসেবায় সক্রিয় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস আলম মৃধা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর গণসংযোগও বেড়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনা এবং সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মাধ্যমে তিনি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্বস্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রমে ফেরদৌস আলম মৃধার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়ভাবে তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকরা।এ ছাড়া পারিবারিক ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।তৃণমূলে অবস্থান কতটা শক্ত—সেদিকেই নজরস্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও বাড়বে। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তাদের ভাষ্য, ফেরদৌস আলম মৃধার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কার কতটা জনসমর্থন রয়েছে, তার প্রকৃত চিত্র ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।‘সুযোগ পেলে সুশাসন ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব’চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ফেরদৌস আলম মৃধা বলেন, “জনগণের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন নিয়ে আমি ১ নম্বর মশাখালী ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। জনগণ আমাকে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দিলে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”এদিকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় ও গণসংযোগকে কেন্দ্র করে মশাখালী ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা বাড়ছে। আগামী নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন এবং ভোটাররা কাকে বেছে নেন—এখন সেদিকেই তাকিয়ে ইউনিয়নবাসী।