মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর নির্দেশনা “বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” এ মূলমন্ত্রে দিক্ষিত হয়ে সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারত হতে মাদকদ্রব্যসহ যে কোন ধরণের চোরাচালানী মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) বদ্ধ পরিকর এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ৫ আগষ্ট আনুমানিক ৮ ঘটিকায় সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) এর অধীনস্থ আলীনগর বিওপির বিশেষ টহলদল কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-২০১৬/এমপি হতে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবাদী নামক স্থানে ফাঁদ পেতে বসে থাকে। উক্ত সময় সন্দেহজনক ০১ জন ব্যক্তিকে মাথায় ঘাস বোঝাই ঝুড়ি নিয়ে ভারতের দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে বিজিবি’র টহলদল কর্তৃক ধাওয়া করা হলে ঘাস ভর্তি ঝুড়ি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি’র টহলদল কর্তৃক ফেলে যাওয়া ঘাস তল্লাসী করে ঘাসের ভিতরে অভিনব উপায়ে গামছার মধ্যে কসটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ০২টি প্যাকেট উদ্ধার করে। উল্লেখিত প্যাকেট হতে *ইয়াবা-২০,১৬০ পিস* আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত মালিকবিহীন ভারতীয় ইয়াবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসকে অবগত করে পরবর্তীতে ধ্বংসের নিমিত্তে ব্যাটালিয়ন সদরে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়াও বুধবার ০৫ আগষ্ট অধীনস্থ মুকুন্দপুর বিওপির টহলদল কর্তৃক ১০,৪৮,০০০/- (দশ লক্ষ আটচল্লিশ হাজার) টাকা মূল্যের ভারতীয় *উন্নতমানের শাড়ী ১৩১ পিস,* ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্প এবং ব্যাটালিয়ন সদরের বিশেষ টহলদল কর্তৃক ৮,৮০,৪০০/- (আট লক্ষ আশি হাজার চারশত) টাকা মূল্যের ভারতীয় *কাবেরী মেহেদী-৭২০ পিস, উন্নতমানের শাড়ী-৬৯ পিস, বাসমতি চাউল-৬০ কেজি এবং মোটরসাইকেলের খুচরা যন্ত্রাংশ-১০০ পিস* আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল সমূহ আখাউড়া কাস্টমস্ অফিসে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
*সরাইল ব্যাটালিয়ন এর টহল দল কর্তৃক ২০,১৬০ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ সর্বমোট ৭৯,৭৬,৪০০/- (ঊনআশি লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার চারশত) টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়েছে।*
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোত্তকভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমানে চোরাচালানী মালামাল এবং মাদকদ্রব্য আটক করা হয়।