শ্রীমঙ্গলে পৃথক দুটি স্থান থেকে দুটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিষহীন দাড়াইশ সাপ জীবিত উদ্ধার করা হলেও আরেকটি ঘটনায় স্থানীয়দের আতঙ্কে একটি সাপ মারা যায়। উদ্ধার হওয়া অপর দাড়াইশ সাপ এবং একটি ঘরগিন্নি সাপ পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের নির্মাই শিববাড়ি রোড এলাকার একটি ধানক্ষেতে স্থানীয়রা হঠাৎ দুটি সাপ দেখতে পান। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত জনতা একটি সাপকে পিটিয়ে হত্যা করে।
এ সময় মোজাহিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে অপর সাপটিকে না মারার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। পরে তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করলে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করেন। তারা জানান, এটি একটি বিষহীন দাঁড়াইশ সাপ। উদ্ধার শেষে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একই দিন দুপুর প্রায় ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের সাগরদিঘী রোডস্থ দীপালী এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী পীযূষ পাল তার দোকানে একটি ঘরগিন্নি সাপ দেখতে পান। পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দিলে পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ঘরগিন্নি সাপটিও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাড়াইশ ও ঘরগিন্নি উভয় সাপই সাধারণত বিষহীন এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। এ ধরনের সাপ ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণী খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাপ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।