চারদিকে তখনো বিয়ের আনন্দের রেশ, ঘরের কোণে এখনো নতুন বউয়ের হাতের লাল মেহেদীর রঙ তাজা। এর মধ্যেই সব সুখ চিরতরে কেড়ে নিল এক মুহূর্তের এক নির্মম দুর্ঘটনা। বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. আল আমিন (৩০) নামের এক তরুণ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে সেনবাগ–সোনাইমুড়ী সড়কের কুটিরবাড়ি এলাকায়।
নিহত আল আমিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ছাতারপাইয়া পশ্চিম-দক্ষিণপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারী বাড়ির আব্বাস ক্বারির ছেলে। তিনি বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ছাতারপাইয়া বাজারে নিজেদের ওষুধের দোকানের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অত্যন্ত অমায়িক এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পরম যত্ন আর উৎসবমুখর পরিবেশে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল আল আমিনের। নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন নিয়ে তিনি বুঁদ হয়ে ছিলেন। কিন্তু কে জানত, এই সুখের দিনগুলো এত দীর্ঘস্থায়ী হবে না? বৃহস্পতিবার রাতে ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেলে করে সোনাইমুড়ী থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। পথিমধ্যে কুটিরবাড়ি এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত দ্রুতগামী মুরগিবাহী অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষটি এতটাই আকস্মিক ও ভয়াবহ ছিল যে, তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
যে বাড়িটিতে মাত্র কয়েক দিন আগে উল্লাস ও আত্মীয়-স্বজনের হাসিমুখের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল, আজ সেখানে শুধুই বুকফাটা কান্না আর মাতম। আল আমিনের অকালপ্রয়াণে তার শোকার্ত পরিবার এবং নতুন জীবনের শুরুতে বিধবা হওয়া নববধূর বুক চেরা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রায়হান মাহামুদ।
অফিস : কুড়িল বিশ্বরোড) বারিধারা, ঢাকা-১২২৯।
ই পেপার