হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার খোজারগাও গ্রামে আধিপত্য বিস্তার এবং নারী ঘটিত বিষয়ের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। এছাড়া সংঘর্ষে আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খোজারগাও গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে সম্প্রতি গ্রামে নারী ঘটিত বেশ কিছু ঘটনা ওই বিরোধকে আরও উসকে দেয়।
জানা গেছে, আব্দুল হকের বোন রেজিয়া খাতুন তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে পিতার দেওয়া জায়গায় বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি রেজিয়া খাতুনের মেয়ে (আব্দুল হকের ভাগ্নি) এক সন্তানের জননী সুহেনা আক্তার অন্য এক পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে রেজিয়ার পরিবার, বিশেষ করে তার ভাই আব্দুল হক ও আব্দুল মালেকের তীব্র মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও গত ২৮ মে আব্দুল হকের ভাতিজা বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী তামান্না আক্তার তার স্বামীর চাচাতো দেবর ফয়ছলের সঙ্গে পালিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
শনিবার বিকেল ৪টার দিকে আব্দুল হক এবং তার ভাগ্নে মোস্তাকিমের সঙ্গে আব্দুল্লাহসহ প্রতিপক্ষের লোকজনের বাগবিতণ্ডা হয়। সে সময় স্থানীয়রা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। পরবর্তীতে মাগরিবের নামাজের সময় উভয় পক্ষ পুনরায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে দ্রুত উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয়রা জানান, গ্রাম্য রাজনীতির প্রভাব এবং একের পর এক ঘটে যাওয়া নারী ঘটিত ঘটনায় উভয় পক্ষ আগে থেকেই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রায়হান মাহামুদ।
অফিস : কুড়িল বিশ্বরোড) বারিধারা, ঢাকা-১২২৯।
ই পেপার