মাদারীপুরের শিবচরে উৎরাইল-শিবচর সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত 'লিটন চৌধুরী' সেতুর পশ্চিম প্রান্তে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতুটির একটি পিলার ও সংযোগ সড়কের খুব কাছেই ভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ না থাকায় বর্ষার শুরুতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫৫০ মিটার দীর্ঘ এই দৃষ্টিনন্দন সেতুটি ২০২৩ সালে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মাথায় আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে এই মেগা কাঠামোটি। বর্তমানে সেতুর পশ্চিম প্রান্তের দক্ষিণপাশে নয়াবাজার সংলগ্ন এলাকায় তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে, যা সরাসরি আঘাত হানছে নদের পাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বর্ষা মৌসুমেও একই স্থানে প্রায় ২০০ মিটার নদীতীর ধসে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। চলতি বর্ষার শুরুতেই নদের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাড় ভাঙা আবার অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, নদের একটি মূল পিলারের ১০০ ফুটেরও কম দূরত্বের মধ্যে ভাঙন চলে এসেছে। ফলে সেতুটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। পর্যাপ্ত নদীশাসনের অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা
স্থানীয় বাসিন্দা শাহআলম সরদার বলেন, গতবার বর্ষার শুরুতেই সেতুর নিচে অনেকদূর ভেঙেছে। এবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। পুরো বর্ষায় আরও ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সেতুটিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সেতু নির্মাণের আগে বা পরে নদীভাঙন ঠেকাতে যে ধরনের পর্যাপ্ত নদীশাসন (River Training) ও স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলে নদের পানি বাড়ার সাথে সাথেই এই ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়।
ভাঙন যদি দ্রুত রোধ করা না যায়, তবে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ধসে পড়ার পাশাপাশি বিলীন হতে পারে সংযোগ সড়ক ও নয়াবাজারের একাংশ। আড়িয়াল খাঁ নদের এই গ্রাস থেকে সেতুটি রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। ভাঙন সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।