সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা অনলাইন পোর্টাল—গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। মানুষের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা, জনমত গঠন, রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে সাংবাদিকতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর এই মহান দায়িত্ব পালনের মূল চালিকাশক্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন।
তথ্যপ্রযুক্তির এই স্বর্ণযুগে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন আকাশচুম্বী, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গুজব ও অপপ্রচারের ঝুঁকি। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ও জরুরি হয়ে পড়েছে। একটি সংবাদ প্রকাশের পূর্বে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যবহার করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা পেশাদার সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান শর্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ কেবল ঘটনার বিবরণ নয়, বরং তা সমাজের প্রতিচ্ছবি। সঠিক তথ্য যেমন জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে; ঠিক তেমনি অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। এতে করে খোদ গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ে।
"দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতার চেয়ে তথ্যের নির্ভুলতা ও সত্যতা নিশ্চিত করা বেশি প্রয়োজন। কারণ একটি ভুল সংবাদ মুহূর্তেই বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, আর একটি সঠিক সংবাদ গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাকে আজীবন ধরে রাখে।"
সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যকে তুলে ধরাই একজন গণমাধ্যমকর্মীর আসল পরিচয়। পেশাগত নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও জনস্বার্থকে সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
দেশের সচেতন নাগরিক ও সুধী সমাজের প্রত্যাশা—সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত নীতিমালা বজায় রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা আরও বেগবান করবেন। সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের এই ধারাবাহিকতাই গণমাধ্যমের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখবে এবং একটি সচেতন, প্রগতিশীল ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রায়হান মাহামুদ।
অফিস : কুড়িল বিশ্বরোড) বারিধারা, ঢাকা-১২২৯।
ই পেপার