সড়কের নির্মমতা কেড়ে নিল আরও একটি জীবন। তবে নিভে যাওয়া সেই প্রাণের শেষ পরিচয়টুকুও জানা যায়নি। নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় এক অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন আনুমানিক ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। মৃত্যুর পরও তার ভাগ্যে জোটেনি নিজের নামটুকুর স্বীকৃতি; হাসপাতালের খাতায় তিনি শুধুই এক 'অজ্ঞাতপরিচয়'।
রোববার (২১ জুন) ভোররাতের আলো ফোটার আগেই উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের সেনবাগ-চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কের আজিজপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কোনো এক দ্রুতগামী যান তাকে পিষে দিয়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা এই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে, সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পথচারীরা রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় ছটফট করতে দেখেন। তাদের খবরের ভিত্তিতে সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রউফ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মানবিক তাড়নায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সকাল ৭টার দিকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও এই বৃদ্ধের মরদেহের পাশে এসে দাঁড়ায়নি কোনো স্বজন। কেউ খোঁজ নেয়নি তার।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির রব্বানী জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একটি পরিবারের হয়তো কেউ একজন হারিয়ে গেল, কিন্তু তারা এখনো তা জানেনই না। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘাতক যানবাহন ও তার চালককে চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
তিনি শেষবারের মতো কার মুখ দেখতে চেয়েছিলেন, কিংবা কার অপেক্ষায় ছিলেন—সেই গল্প আর জানা হলো না। পরিচয়হীন এক লাশ হয়ে এখন তিনি শুয়ে আছেন হাসপাতালের হিমঘরে।