গোনাহ থেকে বাঁচতে’ এবং হালাল পথে চলার তাগিদ থেকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। বুধবার (৬ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজেই দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তে তাঁর প্রথম স্ত্রীর কষ্ট হচ্ছে স্বীকার করে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা করে পরিচিতি পাওয়া রফিকুল ইসলাম মাদানী শারীরিক গঠনের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে বেশি পরিচিত। যদিও তিনি নিজেকে এই নামে ডাকতে বরাবরই নিষেধ করে এসেছেন। এর আগে রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন তিনি।
আজ ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘আমি আমার আল্লাহকে ভয় করি... গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে চাই।
এই চাওয়াটাই আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে—দ্বিতীয় বিয়ে।’
সমাজে বিবাহিত হয়েও অনেকে গোপন পাপে বা ‘হারাম’ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন উল্লেখ করে এই বক্তা লেখেন, ‘আমি সেই পথের একজন হতে চাইনি। আমি চাইনি নিজেকে কোনো হোটেল, পার্ক কিংবা অন্ধকার কোনো পথে খুঁজে পাই। আমি চেয়েছি হালালের মধ্যে থাকতে, আল্লাহর বিধানের মধ্যে থাকতে।’
দ্বিতীয় বিয়ের কারণে প্রথম স্ত্রীর মানসিক অবস্থার কথাও পোস্টে তুলে ধরেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন, ‘আমার এই সিদ্ধান্তে আমার প্রথম আহলিয়ার (স্ত্রী) কষ্ট হয়েছে... হচ্ছে। এটা ভাবলেই আমার বুকটা ভেঙে যায়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, এটি কোনো মানুষের বানানো নিয়ম নয়—এটি আমাদের সবার রবের বিধান।’
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আড়াই বছরের সংসারে কোনো অভিযোগ ছিল না জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘কিছুদিন ধরে আমি তাকে বুঝিয়েছি... অসংখ্য রাত আমি আল্লাহর কাছে কেঁদে দোয়া করেছি—যেন তাঁর মনটা নরম হয়, যেন তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারেন। কখনো মনে হয়েছে তিনি বুঝছেন, আবার হঠাৎই ভেঙে পড়েছেন, না বলে দিয়েছেন।’
পোস্টের শেষ অংশে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি যেন দুই স্ত্রীর প্রতি ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচার করতে পারেন এবং কারও অধিকার বা ‘হক’ নষ্ট না করেন, সে জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন।
তাঁর এই পোস্টে ইতিমধ্যে হাজার হাজার অনুসারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং মন্তব্যের ঘরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, আবার অনেকেই প্রথম স্ত্রীর অনুভূতির প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রায়হান মাহামুদ।
অফিস : কুড়িল বিশ্বরোড) বারিধারা, ঢাকা-১২২৯।
ই পেপার