টাংগাইলের নাগরপুর উপজেলা জুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন রাত মিলে ১৫ থেকে ২০ বারে প্রায় ১৬ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছে।
স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনব্যাপী ঠিকমতো বিদ্যুৎ মিলছে না। ফলে গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে জনসাধারণের, আর রাতের ঘুম যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
এক দিকে বাজারে তেলের সংকট, অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিং এর কারণে কৃষি খাতে এর প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেচ পাম্প চালাতে না পারায় কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।
ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন, কারণ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এমন অবস্থায় চলমান এসএসসি ও আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
এছাড়া এই লোডশেডিং এর কারণে নাগরপুর হাসপাতালে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীদের চিকিৎসায়ও ব্যাঘাত করছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেন, নাগরপুর উপজেলার দুটি সাবস্টেশনে মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৮ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। ফলে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়ে উপজেলা জুড়ে এরকম লোডশেডিং হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ জি এম নয়ন চন্দ্র সরকার মুঠোফোনে জানান- লোডশেডিংয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে নাগরপুরের জনজীবন ও অর্থনীতি আরও বড় সংকটে পড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রায়হান মাহামুদ।
অফিস : কুড়িল বিশ্বরোড) বারিধারা, ঢাকা-১২২৯।
ই পেপার