আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সকল অঙ্গসংগঠনকে বাংলাদেশের মাটিতে নিষিদ্ধ ও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুন্নুর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে জকিগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় গেট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি জকিগঞ্জ পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে এমএ হক চত্ত্বরে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ছাত্রনেতা মিনহাজুল হক রিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রেদোয়ান রাফি, লুৎফুর রহমান, জুয়েল আহমদ সাজু, পারভেজ মোশাররফ পাভেল, হোসাইন আহমদ, জুবের মোহাম্মদ, ওয়াসিম আকরাম, জাফর আহমদ, আশরাফুজ্জামান রাদি, দিলশাদ আনোয়ার।
সমাবেশে ছাত্রনেতা মিনহাজুল হক রিফাত বলেন, "আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের আপামর জনতার উপর যে নগ্নতা দেখিয়েছে তা কখনই ক্ষমা করা যায় না। আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ে বাংলার মানুষের উপর ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরেরা মুজিববাদ কায়েম করতে চেয়েছিল। আমরা বাংলাদেশে আর কোন মুজিববাদ দেখতে চাই না। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা মণ্ডলিদের কাছে আহ্বান করবো অতিদ্রুত আওয়ামী লীগ ও তার প্রেতাত্মাদের বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ ও স্বৈরাচারের তৈরি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হবে। নইলে বাংলার ছাত্র সমাজ আবারো মাঠে নামতে বাধ্য হবে।"
ছাত্র আন্দোলনের নেতা রেদোয়ান রাফি বলেন, "গতকাল রাতে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের দোসর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে। তারা এই দেশে আবারো মাথাছাড়া দিয়ে উঠার পাঁয়তারা করছে। তাদেরকে বাংলার ছাত্রসমাজ জীবনের বিনিময়ে একবার উৎখাত করেছে। প্রয়োজনে আবারো বাংলার ছাত্রসমাজ এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসবে।”
জুয়েল আহমদ সাজু বলেন, “অবৈধ সরকারের তৈরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গত ৫ আগস্ট বলেছে তার কাছে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছে। সে আজকে আবার বলছে তার কাছে নাকি কোন পদত্যাগ পত্র নেই। আমরা ছাত্রসমাজ অনতিবিলম্বে অবৈধ সরকারের তৈরি রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই।”
ছাত্রনেতা লুৎফুর রহমান, বলেন, "স্বৈরাচারের দোসরেরা আবারো জেগে উঠার পাঁয়তারা করছে। আজকে রাষ্ট্রপতি বলছে পলাতক স্বৈরাচারী শতাব্দীর ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট হাসিনা নাকি পদত্যাগ পত্র জমা দেয়নি। আমরা বাংলার ছাত্রসমাজ তাদেরকে হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই আপনারা যদি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অভিভাবক হয়ে আমলাতান্ত্রিক জায়গা থেকে তাদেরকে পুনর্বাসন করতে চান তাহলে আমরা এমন পদক্ষেপ নিব যাতে বাংলাদেশে আগামী একশ বছর আওয়ামী লীগ নাম নেওয়ার কেউ সাহস না পায়।”